ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

অভিজ্ঞতার অভাবেই যানজট

পূর্বদেশ ডেস্ক

45

আমাদের দেশে আগে কোনো ফোরলেন মহাসড়ক ছিলো না। বর্তমান সরকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীত করেছে। কিন্তু এখনও আমরা তা রক্ষণাবেক্ষণের অভিজ্ঞতা অর্জন করিনি। আর অভিজ্ঞতার অভাবেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশাল জটলা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘ফেনী শহরের ফতেহপুরে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ কাজকে ঘিরে সৃষ্ট যানজট ছড়িয়ে পড়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড পর্যন্ত, যা প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এটা আমাদের অভিজ্ঞতার অভাবে হয়েছে। আমরা প্রথমে এই সড়কের অনেক স্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করেছি। কিন্তু মানুষ এগুলো ব্যবহার করতে চায় না। নতুন করে আবারও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব কারণেই জটলা হয়েছে। আমাদের ফোরলেন নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকলে এমনটা হতো না’। খবর বাংলানিউজের
দেশের সড়ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখেছি গ্রামের সড়কের অবস্থা অনেক ভালো। তবে শহরের সড়ক আরও উন্নত করতে হবে। আমাদের আগে তো সড়কই ছিল না, এখন তো হয়েছে। আমরা এখন থেকে কংক্রিটের সড়ক নির্মাণ করবো আর বিটুমিন নয়। বিটুমিনের সড়ক পানির শত্রæ। একটু বৃষ্টি হলেই নষ্ট হয়ে যায়। বিটুমিনের সড়ক মানেই সরকারি টাকার অপচয়। বিটুমিনের সড়ক এক বছরেই নষ্ট হয়ে যায়, তাই আমরা টেকসই কংক্রিটের সড়কে যাবো’।
কমতে শুরু করেছে যানজট : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের যানজট কমতে শুরু করেছে। সোমবার বিকেল থেকে যান চলাচল ছিলো অনেকটাই স্বাভাবিক। মহাসড়কের ফতেহপুরে রেলওয়ে ওভারপাসের নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট এ যানজটে বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার টানা পাঁচ দিনের যানজটে নাজুক অবস্থায় পড়তে হয় এ পথে চলাচলকারীদের। তৈরি হয়েছিলো ১২০ কিলোমিটারেরও বেশি যানজট। বৃষ্টি কমে যাওয়া এবং পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে যানজট কমছে বলে মনে করছেন পরিবহন চালক, শ্রমিক ও যাত্রীরা।
এদিকে আজ মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে নির্মাণাধীন এ ওভারপাসের একাংশ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ অংশটি খুলে দিলে যানজট অনেকাংশেই কমে যাবে বলে মনে করছেন মহাসড়কে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেন। রাস্তার কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের চালকরাও মনে করছেন ওভারপাসটির অন্তত একটি অংশ চালু হলেও যানজট কমে যাবে। পড়তে হবে না সীমাহীন দুর্ভোগে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যানজট নিরসনে মহাসড়কের এ অংশে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিপু বিপিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওভারপাস নির্মাণ কাজ শুরু করে। কার্যাদেশ পাওয়ার তিন বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি তারা। ঠিকাদারের গাফিলতি ও স্থানীয় চাঁদাবাজদের কারণে এক পর্যায়ে ওই ঠিকাদার কাজ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
পরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আল আমিন কনস্ট্রাকশন নামে আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬১ কোটি টাকা। গত বছরের মার্চ থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হওয়া নির্মাণ কাজের বেশ অগ্রগতিও হয়েছে। তবে দীর্ঘ ছয় বছরেও ফতেহপুর রেল ক্রসিংয়ের এ উড়াল সেতুর (ওভারপাস) নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।
জেলা ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মীর গোলাম ফারুক জানান, যানবাহন চলাচল ঠিক রাখার জন্য ট্রাফিক পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। ওভারপাসটির অন্তত একটি অংশ খুলে দেওয়া হলে যানজট নেমে যেতে পারে শূন্যের কোটায়।