শাহ আমানত সেতু-নিউ মার্কেট

‘অবৈধ ট্যাক্সি’ চালাতে সিন্ডিকেটের নতুন রুট!

মনিরুল ইসলাম মুন্না

63

আঞ্চলিক ট্রান্সপোর্ট কমিটির (আরটিসি) অনুমোদন না নিয়ে নগরীর শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত শতাধিক অবৈধ সিএনজি চালিত ট্যাক্সি দিয়ে নতুন রুট চালু করেছে একটি সিন্ডিকেট। যার নেতৃত্বে আছেন চট্টগ্রাম অটো টেম্পু সমিতি ১০ এর সাধারণ সম্পাদক জানে আলম। অথচ সিএনজি ট্যাক্সি দিয়ে নগরীর অভ্যন্তরে কোনো রুট করার সুযোগ নেই।
কয়েকজন চালক জানিয়েছেন, এ অবৈধ সিএনজি ট্যাক্সির রুটে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শকও জড়িত রয়েছেন। কিন্তু নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বলছে, অবৈধ কোন গাড়ি চলার সুযোগ নেই। আমরা অবৈধ গাড়ি পেলেই ছাড় দিচ্ছি না।
গত বছরের ২৩ জুলাই ‘আলকরণে সিন্ডিকেটের অবৈধ টেম্পু স্ট্যান্ড’ এবং ১৬ ডিসেম্বর ‘টাইগারপাসের টেম্পু আলকরণ মোড়ে এসে ঘুরে যায়’ শিরোনামে দুইটি সংবাদ প্রকাশিত হয় পূর্বদেশে। এরপরও সিন্ডিকেটে কোন প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে করোনার প্রাদুর্ভাব চলে আসলে নতুন করে অবৈধ সিএনজি ট্যাক্সি দিয়ে আরও একটি রুট চালু করেন জানে আলম। আবার ১৭নং রুটে নির্ধারিত সিলিং ১৪০ হলেও ওই রুটে চলে ৩০০টিরও বেশি টেম্পু। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
সরেজমিন দেখা যায়, নতুন ব্রিজ থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি সিএনজি ট্যাক্সি চলাচল করছে। যার মধ্যে ৫০টিরও বেশি গ্রাম সিএনজি ট্যাক্সি এবং বাকিগুলো আদালত থেকে নিলামকৃত এবং অনটেস্ট লেখা। প্রতি সিএনজি ট্যাক্সি থেকে দৈনিক আদায় করা হয় ৩০০ টাকা করে। যা সরাসরি আদায় করেন জানে আলমের নিজস্ব টেম্পু ড্রাইভার টিটু এবং লাইনম্যান ফয়সাল।
যদি প্রতি গাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়, তবে ১০০ গাড়ি থেকে দৈনিক আদায় হয় ৩ হাজার টাকা, মাসে ৯০ হাজার টাকা এবং বছরে এক কোটি ৮ লাখ টাকা। আর এ ওয়েবিল না দিলে ওই রুটে গাড়ি চলাচল করতে পারে না বলে জানান চালকরা।
তবে নিয়ন্ত্রণকারী জানে আলম বলেছেন, আমি টেম্পু লাইন নিয়ে পড়ে আছি। ট্যাক্সি লাইনের বিষয়ে বলতে পারবো না।
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ ম্যানেজ হয়ে গেলে প্রভাব পড়বে কেমনে। অথচ গাড়ির চালকরা বেপরোয়া এবং অপরিপক্ক বলে দুষছেন খোদ যাত্রীরা।
যাত্রী মো. শোহরাব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ট্রাফিকরা কি এসব চোখে দেখেন না। তাদেরকে তো মনে হয় টাকা দিয়ে কিনে ফেলেছে। আমরা যদি কোন মারাত্মক দুর্ঘটনায় পড়ি, তাহলে দায়ভার কে নিবে?
ট্রাফিক বিভাগ বলছে, আমরা অবৈধ গাড়ি পেলেই ড্যাম্পিং করে ফেলছি। এখানে কোন স্টেশনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারা স্বেচ্ছায় এখানে অবৈধ সিএনজি ট্যাক্সি লাইন করেছে।
গত বৃহস্পতিবার শাহ আমানত সেতু এলাকায় (নতুন ব্রিজ) গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক গাড়ি কোতোয়ালি নিউ মার্কেটের উদ্দেশে ছাড়ছে। যে গাড়িতে যাত্রী পরিপূর্ণ হচ্ছে সেটি যাত্রা করছে।
চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন যা আয় হয়, তা সরাসরি সাধারণ সম্পাদক জানে আলম এবং বাকলিয়ার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) সামছুদ্দিনের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ট্যাক্সিগুলোকে পুলিশ আর কোন রকমের বিরক্ত করেন না।
লাইনম্যান ও টাকা উত্তোলনকারী মো. ফয়সালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন বন্ধ করে রাখায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম অটো টেম্পু সমিতি ১০ এর সাধারণ সম্পাদক জানে আলম পূর্বদেশকে বলেন, আমাদের সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ। ট্যাক্সি লাইনটা আমি নিয়ন্ত্রণ করি না, তবে টেম্পু লাইনটা আমাদের।
গাড়ির নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাকলিয়া ট্রাফিকের পরিদর্শক (টিআই) মো. সামছুদ্দিন বলেন, আমি কেন লাইন নিয়ন্ত্রণ করতে যাবো, আমি কি গাড়ির ব্যবসা করি? আমি এটুকু বলতে পারি, আমরা নিয়মিত মামলা এবং জব্দ করছি।
তাহলে ট্যাক্সিগুলো কার নিয়ন্ত্রণে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের সাংবাদিকদেরও অনেক গাড়ি রাস্তায় চলে, সেগুলো নিয়ে লেখেন না কেন? এরপর ‘আমরা সব ব্যবস্থা নিবো’- এ কথা বলে তিনি মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।
ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) মহিউদ্দিন খান বলেন, অবৈধ কোন গাড়ি আমার এলাকায় চলতে দিই না। সার্জেন্টদের চোখে পড়লে ধরে নিয়ে ‘টো’ (জব্দ) করে দিই। সব সময় আমরা অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আসছি।
এ ব্যাপারে নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর পূর্বদেশকে বলেন, আমরা এখন প্রত্যেকটি রুট নিয়ে যাচাই-বাছাই করছি। অবৈধ কোন গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না। এতে যদি আমাদের পুলিশ সদস্যও জড়িত থাকে, তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না।