ট্রাম্প-কিম সম্মেলন

অবস্থান বদলাবে না উত্তর কোরিয়া

13

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী রি ইয়ং হো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামনের দিনে যত আলোচনাই করুক না কেন, কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে পিয়ংইয়ংয়ের শর্ত ও প্রস্তাব বদলাবে না। বৃহস্পতিবার কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের ভিয়েতনাম সম্মেলন শেষ হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ট্রাম্পের দাবি, উত্তর কোরিয়া তাদের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত দেয়াতেই দুই দিনের সম্মেলনটি সমঝোতা ছাড়া শেষ হয়েছে। যদিও পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রি এ দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, সব নয়, উত্তর কোরিয়া কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের পরিদর্শকদের উপস্থিতিতে ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ভেঙে ফেলাসহ বেশ কিছু ‘বাস্তবসম্মত’ প্রস্তাব হাজির করেছিল বলেও জানান এ পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
“গণতান্ত্রিক কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এখনকার আস্থা বিবেচনায় নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাব,” বলেছেন তিনি। এর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আংশিক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিল, যা ‘বেসামরিক অর্থনীতি ও জনসাধারণের জীবনধারণকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে’, বলেন রি। পিয়ংইয়ং পারমাণবিক পরীক্ষা ও দীর্ঘ পাল্লার রকেট উৎক্ষেপণ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও জানান তিনি। কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণে হ্যানয় সম্মেলনের মতো আর কোনো সুযোগ শিগগিরই দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য উত্তরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
“ভবিষ্যতের আলোচনাতেও যুক্তরাষ্ট্র যতই প্রস্তাব দিক না কেন, আমাদের মূল অবস্থান সামনের দিনেও অপরিবর্তনীয় থাকবে, আমাদের প্রস্তাবও বদলাবে না,” বলেন রি। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার দুইদিনের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়া শেষ হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘পিয়ংইয়ং সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত দিয়েছে’ বলে জানিয়েছিলেন। “সবকিছুই হয়েছে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। তারা চেয়েছে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার, যা আমরা করতে পারছি না। মাঝে মাঝে আপনাকে বেরিয়ে আসতে হয়, এটি ছিল তেমনই একটি সময়,” বলেছিলেন তিনি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের সঙ্গে আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকবে বলে আশ্বাসও দিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পথে তিনি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুই নেতার সঙ্গে ১৫ মিনিট করে কথা বলেছেন বলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স জানিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা ‘দেরি হওয়ার আগেই’ নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে ফের আলোচনা শুরু করবে বলেই তার প্রত্যাশা। “সামান্য সময় লাগতে পারে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের ফের একত্রিত হতে একটু সময় লাগবে,” বলেছেন তিনি।