অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা ওমানে সোশ্যাল ক্লাব ও সিরাজুল হক

জুবায়ের সিদ্দিকী

122

তারুণ্য হল বর্ষার খরশ্রোতা নদী। নদী হল প্রকৃতির সুধাধারা। তারুণ্য ধারণ করে সত্য প্রতিষ্ঠার প্রেরণা। ভেঙ্গে গড়ার আকাক্সক্ষা। তারুণ্য যেন আলোহীন গহন কালোর অভিমুখে অগ্রসরমান। নবীন ও প্রবীণদের নিয়ে প্রবাসে যিনি এক প্লাটফরমে গড়ে তুলেছেন ঐক্যের মিলনমেলা তিনি আলহাজ্ব সিরাজুল হক। সালতানাত অব ওমানের সোশ্যাল ক্লাবের সভাপতি। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাব এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুখ-দুঃখের সাথী। সাবেক রাষ্ট্রদুত আমীন আহমেদ চৌধুরী (বীর বিক্রম) এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। ওমানে এর দুটি শাখা রয়েছে। চট্টগ্রামের রাউজানের কৃতি সন্তান সিরাজুল হক একজন সমাজসেবক ও সংগঠক। ওমান সরকারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই সোশ্যাল ক্ল প্রবাসীদের আস্থা ও ভরশার প্রতীক। বিগত ২ বছর যাবত তিনি সভাপতির দায়িত্বপালন করছেন। ২০০৯ সালে সিরাজুল হক ওমান সোশ্যাল ক্লাবের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। একই ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ৩ বছর। ধাপে ধাপে তিনি বর্তমানে সভাপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত। সোশ্যাল ক্লাবের বর্তমান কমিটি সবাই ক্লাবের স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই ক্লাবে প্রবাসী অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রয়েছেন। যাদের ত্যাগ, শ্রম ও মেধায় সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। এই ক্লাব প্রবাসীদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে। প্রবাসীরা যখন অসুস্থ হয় তখন এই ক্লাবের কার্ড দেখিয়ে ৫০ পার্সেন্ট ডিসকাউন্টে ক্লিনিকে সেবা পাচ্ছে। বাংলাদেশ স্কুলকে ও বাংলাদেশ দুতাবাসের কার্যকলাপকে সহযোগিতা করছে সোশ্যাল ক্লাব। অন্যদিকে মান্যবর রাষ্ট্রদূতসহ দুতাবাসেরও আন্তরিক সহযোগিতা রয়েছে সোশ্যাল ক্লাবের প্রতি। দেশের জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় ওমানে সোশ্যাল ক্লাব পালন করে আসছে। ওমানে বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানও ক্লাব অত্যন্ত আন্তরিকভাবে পালন করে আসছে।
এছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে। ওমান সরকারের একমাত্র অনুমতিপ্রাপ্ত সংগঠন হল ওমান সোশ্যাল ক্লাব। বাংলাদেশ কমিউনিটির জন্য একমাত্র বৈধ এই সংগঠন অত্যন্ত সুনামের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। ওমান সরকার বাংলাদেশিদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাÐ যেন এই ক্লাবের মাধ্যমে করতে পারে সে ব্যবস্থা করেছে। প্রত্যেক দেশের জন্য এভাবে একটি সংগঠনকে ওমান সরকার অনুমতি দিয়েছে। এই সংগঠনের বাইরে গিয়ে কাজ করা মানে আইনত অপরাধ। এ বিষয়টি বাংলাদেশ দুতাবাস থেকে বার বার প্রবাসীদের সতর্ক করে দিচ্ছে। যে কোন অনুষ্ঠানের অনুমতি ওমান সরকারের পক্ষ থেকে পায় সোশ্যাল ক্লাব। তবে নতুন কোন কর্মসূচি করতে হলে ১৫-২০ দিন পূর্বে অনুমতি নিতে হয়। সোশ্যাল ক্লাবের বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, বড় কোন অনুষ্ঠান করতে হলে পুলিশ বিভাগ, কালচারাল মিনিস্ট্রি ও মিনিস্টার অব সোশ্যাল ডেবলপমেন্ট থেকে অনুমতি নিতে হয়। সোশ্যাল ক্লাব তার নিজস্ব কর্মপন্থায় সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সালতানাত অব ওমানে আগে ছোট্ট পরিসরে ক্লাবের অফিস ছিল। এখন বড় পরিসরে ৩ তলা ভবন হয়েছে এবং প্রায় ২০০ লোক সমাগমের মত হল নির্মিত হয়েছে। স্টোর, ম্যানেজার কক্ষ, কনফারেন্স কক্ষ, সভাপতির কক্ষ, অতিথিদের বসার স্থান রয়েছে। একটা ক্লাবে যে সব সুবিধা থাকার প্রয়োজন এখানে সব আছে। ওমানের সরকারের কাছে বাংলাদেশিদের সংগঠন সোশ্যাল ক্লাব ভাল একটা ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে শুধুমাত্র ক্লাবের দক্ষ সাংগঠনিক তৎপরতা ও সুশৃঙ্খলার জন্য। অন্যান্য ক্লাবের চেয়ে এই ক্লাবের কর্মকাÐ অনেক বেশি। প্রবাসীদের মাঝে সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন, মানুষকে ক্লাবমুখী করা, ওমানের আইন কানুন মেনে চলার মনমানসিকতা থাকা সহ সচেতনতা বৃদ্ধি করাই সোশ্যাল ক্লাবের উদ্দেশ্য। মান্যবর রাষ্ট্রদুত এ ব্যাপারে সোশ্যাল ক্লাবকে সহযোগিতা করছেন। পরবর্তী প্রজন্ম যেন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পদক্ষেপ গ্রহণসহ ক্লাবকে এগিয়ে নিতে পারে সে ব্যাপারে বর্তমান কমিটি অত্যন্ত সচেতন বলে সূত্রমতে জানা যায়।
সোশ্যাল ক্লাব ওমানে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। এখানে প্রবাসীদের স্বার্থে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রবাসীদের জীবন ও জীবিকার পথকে যেন প্রশস্ত করছে। ভবিষ্যত প্রজন্ম এই ক্লাবকে নিয়ে অহংকার করতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করছেন বর্তমান সভাপতিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ। তবে এই ক্লাবের বর্তমান সভাপতি সিরাজুল হক সভাপতির দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে ক্লাবের অবকাঠামোগত ও আনুসাঙ্গিকভাবে উন্নয়ন সাধন হয়েছে। চট্টগ্রামের রাউজানের কৃতি সন্তান সিরাজুল হক একজন দক্ষ সংগঠক ও পরিশ্রমী মানুষ। তার আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় ও সাধারণ সম্পাদক এম.এন আমিনের ঐকান্তিক সহযোগিতায় এই সোশ্যাল ক্লাব বর্তমানে ওমানে বেশ প্রশংসিত। সোশ্যাল ক্লাব তার কর্মকাÐের জন্য ওমান মিনিস্ট্রি থেকে প্রশসংসাপত্র পেয়েছে বিভিন্ন সময়। ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল হক ওমানে শহীদ মিনার স্থাপনে অবদান রেখেছেন। এ জন্য বাঙালি কমিউনিটিতে তার প্রশংসা রয়েছে।
চট্টগ্রামের রাউজানের এক সম্ভ্রান্ত বংশের বনেদি পরিবারে সিরাজুল হকের জন্ম। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আছেন ওমানে। ওমানের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে সিরাজুল হক অন্যতম। দানবীর, সংগঠক ও সমাজসেবক সিরাজুল হক একজন সৎ, সাহসী ও নিষ্টাবান ব্যক্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সিরাজুল হকের পিতা নিজ গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। জনহিতকর কর্মকাÐের সাথে সমৃক্ত সিরাজুল হক কর্মের জন্য প্রবাসে থাকলেও নাড়ির টানে দেশে ফিরে আসেন। লাল সবুজের উড্ডীন পতাকায় জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন দেশে। তাই প্রবাস থাকলেও মন পড়ে থাকে স্বদেশে। মানুষের পাশে থাকতে চান। রাজনৈতিক কোন অভিলাস নেই তার। রক্তের প্রতিটি কনায় উজ্জীবিত সমাজসেবা। স্বদেশের মাটিতে সমাজসেবায় অনুপ্রাণিত হয়ে প্রবাসেও বাংলাদেশিদের আপদে-বিপদে সুখে-দুঃখে অত্যন্ত কাছের মানুষ সিরাজুল হক। প্রবাসীদের আনন্দ-বেদনার অংশীদার হয়ে থাকতে চান মানুষের মাঝে। ওমান সোশ্যাল ক্লাব আজ এতদূর এগিয়ে আসার পেছনে সিরাজুল হকের অবদান ও পরিশ্রম এখনও বিদ্যমান। সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সোশ্যাল ক্লাবের গতিপথ অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় একজন সফল ব্যক্তিত্ব তিনি। ওমানে সোশ্যাল ক্লাব মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে অত্যন্ত সুনাম অর্জন করেছে। এই সুনামকে অক্ষুণœ রাখতে দৃঢ প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবেন সিরাজুল হক, এগিয়ে যাবে সোশ্যাল ক্লাব।