অপহরণকারী আটক অপহরণের দুই ঘণ্টা পর ছাত্র উদ্ধার

সাতকানিয়া প্রতিনিধি

18

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মোটর সাইকেলে করে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার দুই ঘন্টা পর মো. আকিফুর রহমান শাওন (১২) নামে এক স্কুল ছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মো. আইয়ুব (২৮) নামে এক অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার সময় উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিববাড়ি চারা বটতলী এলাকা থেকে ছাত্রটিকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের ২ ঘন্টা পর রাত ৮ টার দিকে উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ছোট ঢেমশা এলাকা থেকে অপহরণকারীকে আটক ও অপহৃত স্কুল ছাত্রকে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত শাওন সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের চিব্বাড়ি মিয়াচান পাড়ার আইসক্রিম ব্যবসায়ী মো. আবুল কালামের ছেলে এবং চিব্বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। আটককৃত অপহরণকারী আইয়ুব লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দরগাহ মুড়া এলাকার আবু মুছার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকাল ৫ টার দিকে স্কুল ছাত্র আকিফুর রহমান শাওনকে তার বাবা আবুল কালাম লোহাগাড়ার পদুয়া বাজার থেকে বাজার করে তাদের পরিচিত একটি সিএনজি চালিত ট্যাক্সিতে বাড়ি যাওয়ার জন্য তুলে দেয়। ট্যাক্সিটি চিব্বাড়ি চারা বটতলী এলাকায় পৌঁছলে প্রথমে ৩ অপহরণকারীকে বহনকারী একটি মোটর সাইকেল ট্যাক্সিটির গতিরোধ করে। পরে আরেকটি সিএনজি চালিত ট্যাক্সি গিয়ে ট্যাক্সিটির সামনে গিয়ে ব্যারিকেড দেয়। এসময় মোটর সাইকেলে থাকা অপহরণকারীরা স্কুল ছাত্র শাওনকে ট্যাক্সি থেকে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে করাইয়ানগর হয়ে ছদাহা ইউনিয়নের ছোট ঢেমশা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে এক ছেলের কান্না শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। এর মধ্যে একজন অপহরণকারী শাওনকে নিয়ে একটি কালভার্টের নিচে লুকিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এব্যাপারে শাওনের বাবা মো. আবুল কালাম বলেন, আমার পদুয়া বাজারে একটি আইসক্রীম ফ্যাক্টরী রয়েছে। গত বুধবার আমার ছেলেকে পদুয়া বাজার থেকে বাজার নিয়ে একটি পরিচিত ট্যাক্সিযোগে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। ছেলেকে বহনকারী ট্যাক্সিটি চিব্বাড়ির চারা বটতলী এলাকায় পৌঁছলে একটি ট্যাক্সি ও একটি মোটর সাইকেল দিয়ে ট্যাক্সিটিকে ব্যারিকেড দেয়। পরে আমার ছেলেকে ট্যাক্সি থেকে নিয়ে মোটর সাইকেলে করে অপহরণকারীরা ছদাহার ছোট ঢেমশা এলাকায় নিয়ে যায়। আমি খবর পেয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযানে বের হয়। পরে ছোট ঢেমশা এলাকা থেকে আমার ছেলেকে উদ্ধার ও এক অপহরণকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ট্যাক্সিতে ৬ জন ও মোটর সাইকেলে ৩ জন অপহরণকারী ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, অপহরণকারীরা আমার ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে মোটর সাইকেল থেকে নামিয়ে বলে, তোর বাবা যে টাকা দিয়েছে, টাকাগুলো আমাদের কাছে দেয়। তখন আমার ছেলে বলে, আমার কাছে টাকা নাই। বাবা আমাকে কোনো টাকা দেয় নাই। একথা বলার সাথে সাথে অপহরণকারীরা আমার ছেলেকে মারধর করলে সে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। তার কান্নার আওয়াজ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে একজন ছাড়া অন্যান্য অপহরণকারীরা ট্যাক্সি ও মোটর সাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। আবুল কালাম আরো বলেন, এঘটনায় আমি বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি।
এব্যাপারে সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক প্রিয় লাল ঘোষ বলেন, স্কুল ছাত্র অপহরণের খবর পেয়ে আমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ছদাহা ইউনিয়নের ছোট ঢেমশা এলাকায় গিয়ে স্কুল ছাত্রকে উদ্ধার ও মো. আইয়ুব নামে এক অপহরণকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
এব্যাপারে সাতকানিয়া পরিদর্শক (ওসি) মো. রফিকুল হোসেন বলেন, স্কুল ছাত্র অপহরণের ঘটনায় ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে গত বুধবার রাতে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আটককৃত অপহরণকারী মো. আইয়ুবকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।