প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা

অপশক্তির বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী

25

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তার কাছে শেখার অনেক বিষয় ছিল। তিনি ৭৫ এর পরবর্তী আওয়ামী পরিবারের দুঃসময়ে শুধু চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নয়, বৃহত্তর চট্টগ্রামে দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পুনরুজ্জীবিত করে তুলেছিলেন।
গতকাল শনিবার বিকালে প্রয়াত জননেতা এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নগরীর জি.ই.সি কনভেশনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন মেয়র।
তিনি আরো বলেন, চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে হলে তার রাজনৈতিক শিক্ষা-দীক্ষার ইতিবাচক দিকগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌছে দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রত্যয়ী করতে হবে। মহিউদ্দিন চৌধুরী আমৃত্যু অসত্য, অন্যায় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি তৃণমূল স্তর থেকে গণ মানুষের ভালবাসা আদায় করে দেশ-জাতি ও দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তাই আমরা যদি চট্টগ্রাম-৯ আসনসহ ৩টি এবং নগর সংশ্লিষ্ট আরো তিনটি আসন শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারি তবে তার স্ব্প্ন সাধনা কিছুটা হলেও বাস্তবে পরিণত হবে। জনকল্যাণমুখী রাজনীতির প্রতি তার যে আকর্ষণ ও ভালবাসা ছিল তাকে আমরা চিরদিন আমাদের অন্তরে ধারণ করতে পারব।
স্মরণসভায় সভাপতির ভাষণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী এমনিই একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি জীবনে কখনো কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। জনস্বার্থে যখন যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন তা গ্রহণ করে গণমানুষের হৃদয় জয় করে গেছেন।
সাবেক মন্ত্রী ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. আফছারুল আমীন এম.পি বলেন, মহিউদ্দিন ভাই আদর্শ ও নৈতিকতার প্রশ্নে ঝুঁকি নিতে জানতেন। দুঃসময়ে কখনো তিনি নিজেকে আড়াল করে রাখেননি। এ সাহসী মানুষটি সবসময় রাজপথে থেকে রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে গেছেন।
১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতা মঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি বলেছেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর মত আরেকজন নেতা জন্মগ্রহণ করবেন না। আন্দোলন লড়াই সংগ্রামে তিনি সার্বক্ষণিকভাবে কর্মীদের সাথে থাকতেন। যেকোন কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি কখনো ব্যর্থ হননি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আমার প্রয়াত পিতা এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী নেতা হিসেবে নই, একজন কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সকল নির্দেশ দায়িত্বের সাথে পালন করেছেন। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে উপলদ্ধি করেছি চট্টগ্রামের বাইরেও তার প্রচুর অনুসারী রয়েছে। তারা আমার প্রয়াত পিতার রাজনৈতিক জীবন থেকে পাঠ গ্রহণ করে দল ও জাতির জন্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার শক্তি অর্জন করে। তাই তার সন্তান হিসেবে আমি গর্ববোধ করি।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী, মহিলা সাংসদ ওয়াসিকা আয়েশা খান, ১৪ দল নেতা ও ওয়াকার্স পার্টি জেলার সভাপতি এড. আবু হানিফ, উপদেষ্টা শফর আলী, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, মহানগর শ্রমিক লীগ সভাপতি বখতিয়ার উদ্দিন খান, মহানগর যুবলীগ আহব্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ আহব্বায়ক এড. মো. জিয়াউদ্দিন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া দস্তগীর।
এর আগে আজ সকালে প্রয়াত জননেতা এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিল শেখ ফরিদ (রহঃ) মাজার সংলগ্ন কবর প্রাঙ্গনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে খতমে কোরআন ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা হারুনুর রশিদ। মিলাদ শেষে মরহুমের কবরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মরহুমের সন্তান চট্টগ্রাম-৯ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড. সুনীল কুমার সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, এম এ রশিদ, চট্টগ্রাম-১১ আসনের নৌকার প্রার্থী এম এ লতিফ, উপদেষ্টা শেখ মো. ইছহাক, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, হাসান মাহমুদ শমসের, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, আহমেদুর রহমান ছিদ্দিকী, মো. হোসেন, হাজী জহুর আহমেদ, আবদুল আহাদ, দিদারুল আলম চৌধুরী, আবু তাহের, জেবাইরা নার্গিস খান, শহিদুল আলম, জহরলাল হাজারী, ১৪ দলের শরিক দলের এড. আবু মোহাম্মদ হাশেম, শরীফ চৌহান, আজাদ দোভাষ, নজরুল ইসলাম আশরাফী, মিঠুল দাশ, স্বপন সেন, নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ জাফর, আবুল মনসুর, গাজী শফিউল আজিম, কামরুল হাসান ভুলু, সৈয়দ আমিনুল হক, শেখ শহিদুল আনোয়ার, এড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, অমল মিত্র, মহব্বত আলী খান, বিজয় কিষাণ, আবদুল লতিফ টিপু, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র ঘোষ, ড. নিছার আহমেদ মঞ্জু, মো. জাবেদ, জাফর আলম চৌধুরী, রোটারিয়ান মো. ইলিয়াছ, হাজী বেলাল আহমদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, থানা আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর চৌধুরী সিইনসি স্পেশাল, হারুনুর রশিদ, আবু তাহের, ফয়েজ আহমদ, হাজী শফিকুল ইসলাম, হাজী ছিদ্দিক আলম, হাজী মো. ইসহাক, সাহাব উদ্দিন আহমেদ, আনসারুল হক, আবদুল হালিম, এ এস এম ইসলাম, শফিউল আলম ছগির, হাজী সুলতান আহমদ চৌধুরী, কাজী আলতাফ হোসেন, নুরুল ইসলাম, রেজাউল করিম কায়সার-সহ সহযোগী সংগঠন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি