রাফি স্মৃতি ক্রিকেটে বাজে আম্পায়ারিং

অপমৃত্যু ম্যাচের, সর্বনাশ এক টিমের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

14

গত ১৯ ফেব্রূয়ারি উদ্বোধনের পর কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত রাফি স্মৃতি জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-১৮) ক্রিকেট লিগ গতকাল আবার শুরু হয়েছে। দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে দিনের প্রথম খেলায় আফতাব আহমেদ ক্রিকেট অ্যাকাডেমির বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছে মিলেনিয়াম ক্রিকেট অ্যাকাডেমি।
দিনের ২য় ম্যাচে আগে ফিল্ডিং করে চিটাগাং ক্রিকেট অ্যাকাডেমি (সিসিএ) আগে ফিল্ডিং নিয়ে উদীয়মান ক্রিকেট অ্যাকাডেমিকে মাত্র ৭৭ রানে অলআউট করে দেয়। হালকা বৃষ্টির মাঝেও (বালির) মাঠ শুকনো থাকায় ম্যাটিং উইকেটে খেলা যথারীতি শুরু হয়। ৪ ওভার শেষে সিসিএ ২ উইকেটে ২৩ রান করার পর মাঠের বাইরে থেকে এক দলের কর্মকর্তারা তাদের খেলোয়াড়কে বল না করে খেলা বন্ধ করতে আহবান জানালে আম্পায়ার ঝুটন দাশের ডাকে অপর আম্পায়ার কাজী ওমর ফারুক খেলা বন্ধ করে দেন। অথচ এ সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির অবস্থা আগের মতই ছিল, একটুও বাড়ে নি। কোন বোলার বা ফিল্ডার একটি বারের জন্য স্লিপ করতে দেখা যায় নি। ব্যাটিং টিম আম্পায়ারদ্বয়কে আর একটি ওভার চালিয়ে খেলাটি শেষ (মিনিমাম ৫ ওভার) করার আকুল আবেদন জানালেও তারা ফিল্ডিং টিমের চাওয়া মোতাবেক খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। বিষয়টি আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করা হলে তিনি তাঁর সমিতির সদস্যদের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেন। অবাক করা বিষয় হলো, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে খেলা ২য় ইনিংস শুরু হলেও আম্পায়াররা ওভার কাটল বা কম ওভার হলে টি-২০’র জন্য প্যারাবোলা সিস্টেমে মিনিমাম ৫ ওভারের জন্য কোন টার্গেটও (টার্গেট হতো মাত্র ২৩ রান যা ৪ ওভারেই হয়ে গিয়েছিল) নির্ধারণ করে দেন নি। আর একই পরিস্থিতিতে ৪ ওভার চললেও মাত্র একটি ওভার না চালিয়ে কেন ম্যাচটির অপমৃত্যু ঘটালেন। ক্রিকেটের নিয়ম অনুসারে ব্যাড লাইট, আবহাওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে আম্পায়ারই একমাত্র সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার রাখে । এ ক্ষেত্রে টিমের দাবীতে খেলা বন্ধ করা যায় কিনা-এটা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষই বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। অবশ্য আম্পায়ার ঝুটন একসময় ঐ দলে খেলতেন বলেই কি ‘রোল অব আম্পায়ার’ নামক ক্রিকেটের আইন-কানুনের চাপ্টারটি তিনি বাসায় রেখে এসেছিলেন?
সম্মানের বিচারক পদে এসে শুধুমাত্র সামান্য কিছু টাকার লোভে ক্রিকেটের আইন সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির এ ধরণের বাজে আম্পায়ারিং এর কারণে একটি ম্যাচের অপমৃত্যুর সাথে একটি দলের সহজ জয় নস্যাৎ করে আরেক দলকে পয়েন্ট দেয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে চট্টগ্রামের ক্রিকেটের জন্য আরো খারাপ সময় অপেক্ষা করছে- বলার অপেক্ষা রাখে না।