চসিক-সিডিএ’র সমন্বয় আশাব্যঞ্জক

অন্য সংস্থাগুলোকে যুক্ত করতে হবে

10

ঘটনাটি ঘটে গেল সোমবার নগর ভবনে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম এক টেবিলে বসে নগরীর উন্নয়নে একাট্টা হওয়ার ঘটনা। দু’জনের পাশে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও নগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। নগরীর উন্নয়নে তাদের দুজনের কথা, সংলাপ, ওয়াদা ও চ্যালেঞ্জ ষাট লাখ নগরবাসীর প্রত্যাশার পালে কিছুটা হাওয়া লেগেছে। ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার সংবাদে দুই চোখ ভরে দুজনার সংলাপ প্রত্যক্ষ করেছিল নগরবাসী। আমাদেরও ভালো লেগেছে, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছি। চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে নগরবাসী দীর্ঘদিন এমন একটি ক্ষণের অপেক্ষা করেছিলেন, সর্বশেষ সোমবার তা পূর্ণ হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে সেবাদানকারী সরকারের অন্যান্য সংস্থাগুলোর উপস্থিতিও আমাদের প্রত্যাশার মধ্যে ছিল। কিন্তু তাদের কোন শীর্ষ প্রতিনিধি না থাকায় নগর উন্নয়নে সমন্বয়ের বিষয়টি কতটুকু কার্যকর হবে, তা প্রশ্ন থেকেই যাবে। কারণ এ মুহূর্তে আমরা ওয়াসার মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তাবায়নে বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করছি। তাদের উন্নয়ন বিড়ম্বনায় পড়ে সাধারণ মানুষ তীক্ত, বিরক্ত। এর সাথে কর্ণফুলী গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় প্রয়োজন। চট্টগ্রামের যানজট অন্যতম বড় সমস্যা। এসমস্যা সমাধানে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ থাকলেও কিছুতেই তা কমছে না। চসিক মেয়র ও সিডিএ’র চেয়ারম্যান বারবার এ যানজট নিরসনের কথা বলেছেন। প্রকল্পও গ্রহণ করেছেন। সিডিএ’র ফ্লাইওভার প্রকল্প মূলত যানজট নিরসনের উদ্যোগের ফল। ফ্লাইওভার হয়েছে, আরো হচ্ছে, প্রকল্প নেয়া হয়েছে এক্সপ্রেস ওয়ে, কিন্তু যানজট কিছুতেই কমছে না। এনিয়ে নগর পিতা ও সিডিএ চেয়ারম্যানকে আরো ভাবতে হবে। আধুনিক ও যুগোপযোগী কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। নগরবাসী নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যে এবং স্বস্তিতে যাতে চলাফেরা করতে পারে-এরজন্য প্রয়েজনীয় উদ্যোগ তাদের নিতে হবে।
আমরা অবশ্যই আশাবাদি যে, নগর আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন তারা নগরীর সকল সেবা সংস্থাগুলোর সাথে বসবেন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে নাগরিক অসুবিধা দূর করে সরকার যা উন্নয়ন করছে নির্বাচনে যেন সরকারের জুড়িতে তার ফল যায় সে ব্যবস্থা করবেন। আমরা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে সাথে স্মরণ করে দিতে চাই আগে আরো একবার এ জাতীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, কিন্তু তার কোন সুফল নগরবাসী পায় নি। আশাকরি এবার আগের সেই নিস্ফল অভিযানের পুনরাবৃত্ত হবে না। নগর আওয়ামী লীগ চসিক ও সিডিএ’র মত সকল সংস্থাকে এক জায়গায় এনে বসানোর উদ্যোগ নিতে পারলে আরো ভালো হতো বলে আমাদের ধারণা। পৃথক বৈঠক শেষে এমন একটি যৌথ বৈঠক সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়ক হবে, সরকারের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করবে। যা আগামী নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমরা আশা করব, এ ধরনের বৈঠক এবং রাজনৈতিক ঐক্যই সরকারের উন্নয়নকে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। চট্টগ্রাম হাজার বছরের যে ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে তাতে দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস যেন আর পুনরাবৃত্ত না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে রাজনৈতিক নেতাদের। সম্প্রতি সরকারের হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জনগণকে আশাবাদি করে তুলেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও আধুনিক সিটিতে রূপান্তর হবে। আর আমাদের গৌরবের সীমা আরো বিস্তার ঘটবে।