অনেক মনে পড়ে আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামালকে

সেলিম আসলাম সোহেল

6

বাংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের জনক আবাহনী এই দেশের একটি অন্যতম ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান। আর যখন আবাহনীর কথা বলি তখন আমরা শেখ কামাল কে স্মরণ করতে ভুলিনা। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জৈষ্ঠ সন্তান ছিলেন। তিনি ১৯৪৯ সালেই ৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকার শাহীন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তিনি এইচ.এস.সি পাশ করেন ঢাকা কলেজ হতে ১৯৬৯ সালে। তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। তিনি সেতার বাদ্যযন্ত্র চর্চা করতেন ছায়ানট এ। তিনি একই সময় সাংস্কৃতিক চর্চায় এবং খেলাধুলায় জড়িত ছিলেন। তিনি খুব ছোট বেলা থেকেই স্কুল ও কলেজ জীবনে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ভালোবাসতেন। উনি আবাহনীতে ক্রিকেটও খেলতেন। কিন্তুু তাঁর দুর্ভাগ্য যে ১৯৭১ সালে যুদ্ধ নেমে এলে তাকে জোর করে তাঁর ইচ্ছা বা পেশা বাদ দিয়ে তাকে মুক্তিবাহিনীর অর্গানাইজার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হয়। তিনি এ.ডি.সি হিসাবে মুক্তিবাহিনীর জেনারেল ওসমানি (কমান্ডার-ইন-চিফ) এ কাজ করে ছিলেন যুদ্ধের সময়। স্বাধীনতা লাভের পর মিলিটারি ত্যাগ করে তিনি সমাজ বিজ্ঞান নিয়ে অনার্স পড়ে গ্র্যাজুয়েট হন। শেখ কালাম একজন খেলা প্রিয় মানুষ। ১৯৭২ সালে গড়ে তুলেন দেশের আধুনিক ফুটবলের জনক আবাহনী ক্রীড়াচক্র। ১৯৭৫ সালের ১৪ই জুলাই তিনি একজন খেলোয়াড় সুলতানা খুকির সাথে বিবাহ করেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান এর একজন যোগ্য উত্তরসূরি। জাতির পিতার আদর্শেই এসেছিলেন। কিন্তু ভাগ্য আবারো তাকে অন্য পথে নিয়ে যায়। কিছুদিন পর তিনি সমাজ বিজ্ঞান এ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে। তিনি এবং তাঁর পুরো পরিবারকে ১৫ই আগস্ট হত্যা করা হয়। তাই, এক জ্বলন্ত প্রদীপ শেখ কামালের জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। তিনি সফল মানুষ হওয়ার চক্রে থাকা সত্তে¡ও নিমর্ম ভাগ্যের পরিহাস তাকে বাধা দেয়। তাই আমরা চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড তাকে স্মরণ এবং শ্রদ্ধা জ্ঞাতার্থে শেখ কামাল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব কাফ আয়োজন করি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন কলকাতায় আমার ছোট দাদা জনাব মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী এক সাথে লেখা-পড়া ও হোষ্টেলে থাকতেন। সেই সূত্রে আমার দাদা মরহুম আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে বড় ভাইয়ের মত সম্মান করতেন। পারিবারিক ভাবে আমার পিতা জনাব আলহাজ্ব এস.এম. ছাইফুউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা, শেখ মনি, শেখ কামাল সহ সকলের সাথে একটা সু-সর্ম্পক ছিল। সেই সূত্র ধরে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ কামাল ও আবাহনী ক্লাবের সাথে নিভীর ভাবে জড়িয়ে পরি। আমাদের সংগঠন শেখ কামাল স্মৃতি সংসদ শেখ কামালের জীবনী নিয়ে বই এবং যাদুঘর তৈরীর চেষ্টা চালাচ্ছে। “যতদিন থাকবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ততদিন বহমান থাকবে আবাহনী ও শেখ কামাল”।

লেখক : প্রাবন্ধিক