শেঠ প্রোপার্টিজের অবৈধ কাঁচাবাজার

অনুমোদন না নিয়েই রাতের আঁধারে ‘স্ল্যাব’ নির্মাণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক

36

সিটি কর্পোরেশনের কেবি আমান আলী সড়কে নিজস্ব অর্থায়নে ‘স্ল্যাব’ নির্মাণের অনুমতি চেয়েছিল শেঠ প্রোপার্টিজ লিমিটেড। এরই প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে সুপারশপের নামে অবৈধ কাঁচাবাজারের সন্ধান পায় সিটি কর্পোরেশনের পরিদর্শক দল। ফলে ‘স্ল্যাব’ নির্মাণের অনুমতি না দিয়ে অবৈধ কাঁচাবাজারটি বন্ধ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু এর মাঝে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে ভাড়াটে লোকের পাহারায় ‘স্ল্যাব’ নির্মাণ করেছে শেঠ প্রোপার্টিজ।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি সিটি কর্পোরেশনের কাছে কেবি আমান আলী সড়কের নালায় নিজস্ব অর্থায়নে ‘স্ল্যাব’ বসানোর অনুমতি চায় শেঠ প্রোপার্টিজ লিমিটেড। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে যাচাই করতে গিয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দল জানতে পারে- নামে চকবাজার সুপারশপ হলেও ম‚লত এটি একটি কাঁচাবাজার। বেসরকারি বাজার বসানো নিয়ে আইনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ‘স্ল্যাব’ বসানোর অনুমতি দেয়নি সিটি কর্পোরেশন।
সিটি কর্পোরেশনের এস্টেট অফিসার এখলাছুর রহমান প‚র্বদেশকে বলেন, তারা আইন ভঙ্গ করে সুপারশপের নামে কাঁচাবাজার বসিয়েছেন। যা সিটি কর্পোরেশনের আইনে নিষেধ রয়েছে। তাই অবৈধ কাঁচাবাজারটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। তারমধ্যে আবার অনুমতি না পেয়ে নিজ দায়িত্বে ‘স্ল্যাব’ নির্মাণ করেছে শেঠ প্রোপার্টিজ। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইনে উল্লেখ রয়েছে- সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত লাইসেন্স এবং শর্ত ব্যতিত কর্পোরেশন এলাকায় কোনো ধরনের বেসরকারি বাজার প্রতিষ্ঠা অথবা রক্ষণাবেক্ষণ করা যাবে না। আইনে নিষেধ থাকা সত্বেও নগরীর চকবাজার এলাকায় সুপারশপের নামে কাঁচাবাজার বসিয়েছে শেঠ প্রোপার্টিজ লিমিটেড।
জানা গেছে, গত শনিবার গভীর রাতে শ’খানেক ভাড়াটে লোকের পাহারায় ‘স্ল্যাব’ নির্মাণ করে শেঠ প্রোপার্টিজ। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে তারই প্রমাণ মেলে। জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যাত্রা শুরু করে শেঠ প্রোপার্টিজের ‘চকবাজার সুপারশপ’। খবর নিয়ে জানা গেছে, কথিত এ সুপারশপের নিচতলায় ৪০ টির অধিক দোকান রয়েছে। দোকানিরা নির্দিষ্ট অংকের সেলামি দিয়ে দৈনিক ও মাসিক ভাড়ায় ব্যবসা করছেন। এছাড়াও দ্বিতীয় তলায় রয়েছে সবজির দোকান। সেখানেও প্রায় একই সংখ্যক দোকান রয়েছে। ৭০ হাজার টাকা থেকে লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে দোকান নিয়েছেন বিক্রেতারা। এছাড়া প্রতিদিন ৭’শ টাকার ভাড়া দিতে হয়। তিনবছরের চুক্তিতে নেওয়া দোকানে প্রতিবছর ১০ শতাংশ করে ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সোলায়মান আলম শেঠ টাকাওয়ালা মানুষ। টাকা দিয়ে সিটি কর্পোরেশনকে ম্যানেজ করে নিয়েছেন। তাইতো অনুমতি না পেলেও নিজ দায়িত্বে ‘ভব’ নির্মাণ করছেন, দেখার কেউ নেই।
শেঠ প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোলায়মান আলম শেঠ কাঁচাবাজার বসানোর কথা স্বীকার করে পূর্বদেশকে মুঠোফোনে বলেন, দেশে এখন সবকিছু আধুনিক হচ্ছে। তাই আমরাও আধুনিক কাঁচাবাজার করেছি। এতে আমাদের তেমন লাভ নেই। যদি সিটি কর্পোরেশন মনে করে, এ বাজার অবৈধ তাহলে বন্ধ করে দিব।
এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সুপারশপের নামে অবৈধভাবে কেউ কাঁচাবাজার বসাতে পারেন না। খোঁজ নিয়ে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।