অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে চলছে প্রতারণা

আসহাব আরমান

20

করোনা ভাইরাসের কারণে গত তিন মাস ধরে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ ঘরবন্দী। সংক্রমণ এড়াতে সহসা তারা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে ঘরে বসেই বিভিন্ন অনলাইন শপ থেকে পণ্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে আগ্রাহী হচ্ছে মানুষ। এ সুযোগে বেড়েছে ভুইফোঁড় ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ। লোভনীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে একটি চক্র।
মানুষ ফেসবুকে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য অর্ডার করেন। পরবর্তীতে পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখা যায়, বিজ্ঞাপন দেওয়া পণ্যের সাথে কোনো ধরনের মিল নেই। একদিনে মানহীন পণ্য, অন্যদিকে দামও দ্বিগুন। কেউ কেউ অর্ডার দিয়ে বিকাশে টাকা পরিশোধ করে আর পণ্য হাতে পাননি। উল্টো টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার করা পণ্য নিতে গিয়ে অপহরণ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে নগরীর আকবর শাহ এলাকায়।
‘দারাজ বিডি ৭১’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে মোবাইলের অর্ডার করে বিকাশে ৪ হাজার টাকা অগ্রীম পাঠিয়েছিলেন কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র তানভিরুল হক। টাকা পাঠানোর পর ২০ দিন গত হলে গেলে পণ্য হাতে পায়নি।
তানভিরের বড়ভাই ইমরান হক বলেন, তারা বলেছিলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। কিন্তু টাকা পাঠানোর ২০ দিন হয়ে গেলেও পণ্য হাতে পায়নি। পরবর্তীতে তাদের সাথে মোবাইলে কল দিলে তারা মোবাইল বন্ধ করে দেন। ভালো মানের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে মানহীন পণ্য দিচ্ছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।
‘অনলাইন মল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে সুরক্ষা সামগ্রী ‘ফেইস শিল্ড’ কিনে প্রতারিত হয়েছেন চবি শিক্ষার্থী ফাহিম উদ্দিন। তিনি জানান, ‘অনলাইন মল’ থেকে ১৯০ টাকা দিয়ে একটি ‘ফেইস শিল্ড’ কিনেছিলাম। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি একই মানের ফেইস শিল্ড বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়। দ্বিগুনের বেশি টাকা নিলেও এই ‘ফেইস শিল্ড’ ছিল খুবই নিম্নমানের। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনে আরও অনেকে প্রতারিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
‘কসমিক প্লাস বিডি’ থেকে ১০ কেজি হিমসাগর ও রূপালি আম অর্ডার করেছিলেন দেবব্রত রায় নামে এক ক্রেতা। তিনি জানান, অর্ডার করা ১০ কেজি আমের অধিকাংশই ছিলো পচা। পরে আমাকে বিনামূল্যে আম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উধাও হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা প্রতিদিন অসংখ্য ধরনের অভিযোগ পাচ্ছি। পরবর্তীতে আমরা এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিই। এ ধরনের আইডিগুলো শনাক্ত করার যে প্রক্রিয়া সেটা ভোক্তা অধিকারের নেই। এক্ষেত্রে যারা আমাদের ডাকে সাড়া দেয় না সেগুলো আমরা হেড অফিসের মাধ্যমে পুলিশকে হস্তান্তর করে দিই।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, এখনো আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে অনলাইনে অর্ডার পণ্য আনতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ‘মেসার্স নূর ফ্যাশন’র স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী মো. মোশারফ হোসেন। করোনাকালীন সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ের জন্য অনলাইনে ‘সিটিজি বাজার ডট কম’ এ করোনা সুরক্ষা সামগ্রী সমূহের বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে প্রদত্ত নম্বরে যোগাযোগ করলে অপহরণকারী চক্র সরাসরি সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ব্যবসায়ী মোশাররফকে আকবরশাহ থানা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে শাহীনা আক্তার নামে মহিলার শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন তার বন্ধুদের সহায়তায় আকবর থানায় অভিযোগ করলে আকবর থানাধীন বিশ্ববাজার এলাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইলসহ অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে আটক করে পুলিশ।