অদেখা ভাইরাস

এমরান চৌধুরী

14

অপরাজিতা ফুলের মতো আকাশ ছিল নীল
রাতটা ছিল আলোর সখা জোনাকভরা ঝিল
লেবু ফুলের গন্ধ শুঁকে নিতাম প্রাণে শ্বাস
কষ্ট ছিল দুঃখ ছিল,ছিল সমান আশ।

দুপুর হলে দিঘির জলে হিরের মতো ঢেউ
এঁকে দিতাম রাজার হালে বাধ সাধেনি কেউ
কচুশাকের পাতার নিচে সরপুটির দল
করত খেলা জলের সাথে ছলকে দিয়ে জল।

গুবাক তরু নুইয়ে গলা নিত জলের ঘ্রাণ
দাঁড়কানারা দিত তখন একতারাতে টান।
কলা পাতার সবুজ শাড়ি মা-কে মানায় বেশ
দূর্বা ঘাসে নোলক পরে উঠত হেসে দেশ।

উড়কি ধানে মুড়কি পুরে মুখটা করে গোল
তাল পাতার বাঁশির সুরে ফোকলা দাঁতে বোল
রূপ অরূপে হারিয়ে গেছে জুঁই ফুলের শ্বাস
সব কেড়েছে এক নিমিষে অদেখা ভাইরাস।

ভোরের শাদা বাতাস বুকে মুখর ছিল গ্রাম
খবর নিত কেমন আছে একেক করে নাম
উঠত পাতে দুরুজ কুরা, আস্ত ভাজা কৈ
বাদ যেত না কালি হাটের পাতিল ভরা দই।

ঢাকা বলো চাটগাঁ বলো স্বস্তি এতটুক
পায় না খুঁজে নগরবাসী কোথায় গেল সুখ?
কোথায় পাবে বাঁচার আশা কে দেখাবেন পথ?
সূর্য ওঠে সূর্য ডোবে থমকে আছে রথ।