যমুনা টার্মিনাল অফিস ভবন উদ্বোধনীতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

অটোমেশন ছাড়া তেলের দুর্নীতিরোধ সম্ভব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

15

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি বলেছেন, ‘জ্বালানি সেক্টরে অটোমেশন ছাড়া দুর্নীতিরোধ করা সম্ভব নয়।’ গত শনিবার বিকেল পাঁচটায় নগরীর পতেঙ্গা যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রধান স্থাপনায় ‘যমুনা টার্মিনাল অফিস ভবন’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পরিচালক (বিপণন) মো. সরোয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিপিসির পরিচালক (অর্থ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হাসান। পরে প্রধান অতিথি নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।অনুষ্ঠানে নসরুল হামিদ বলেন, ‘২০১৪ সালে আমি যখন প্রথম যমুনা ডিপোতে এসেছি তখন মনে হয়েছে সুন্দরবনে ঢুকেছি। এটি তেলের বিপণনকেন্দ্র। অনেক পুরোনো কর্মকর্তারা ছিলেন, তারপরেও পার্বত্য চট্টগ্রামের জঙ্গল এলাকার একটি পরিবেশ দিয়ে রেখেছিলেন। যমুনার পাশে বর্তমানে বেসরকারি তেল টার্মিনাল রয়েছে। তাদের সাথে হিসেব করা হলে আকাশ-পাতাল তফাৎ ছিল। যমুনা ডিপোতে একটি অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। যে অসর্তকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছিল তা এ ডিপোর সাথে কোনভাবেই কমপ্লায়েন্স নয়।’
তিনি বলেন, ‘এ চার বছরে যমুনা অয়েল ডিপোর বিশাল পরিবর্তন হয়েছে। এজন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ধন্যবাদ জানাই। এখন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে উৎসাহ এসেছে। এখানে সরকারের শেয়ার আছে, পাবলিকেরও শেয়ার রয়েছে, এতে করে জবাবদিহিতাও বেশি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসাবধানতা ও কাজের গাফিলতি কোন রাজনীতি তার দায়ভার নিবে না। আমরা পলিসি মেকার। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে রাজনীতিবিদদের
বদনাম হবে, সেটা মেনে নেওয়া যাবে না।’বঙ্গবন্ধুকে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা উল্লেখ করে জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৈনিক ১৭ ঘন্টা কাজ করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট খুব অল্প টাকায় আমাদের গ্যাস ফিল্ডগুলো কিনে নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা ছিলেন বলেই আজকে তার সুফল দেশের ১৭ কোটি মানুষ ভোগ করছে। চারটি গ্যাসফিল্ড থেকে হাজার হাজার কোটি টাকায় দেশ লাভবান হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। গত পাঁচটি বছর আমাদের পোর্টফোলিও প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার তৈরি হয়েছে। আজকের রাস্তাঘাট হয়েছে শেখ হাসিনার কারণে। আমরা ৭ বিলিয়ন ডলার বিদ্যুৎখাতের প্রকল্পের জন্য সই করেছি। নেতৃত্বের কারণে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। শুধুমাত্র নেতৃত্বের কারণে আধুনিক বিশ্বের একটি দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। একটি মাত্র সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্য কাতারে নিয়ে গেছে। তাহলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা “আমাদের টাকায় পদ্মাসেতু করবো। আমরা আমাদের টাকায় বানাবো, কারো কাছে হাত পাতবো না।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিপিসি ও ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানির মধ্যে এখন আকাশ-পাতাল তফাৎ। আত্মবিশ্বাস স্তর কম হওয়ার কারণে বিপিসি কোন প্রকল্প নিতে পারছে না। কর্মকর্তারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে লিডার। সিস্টেমকে ডেভেলপ করতে হবে। আধুনিকায়নে যেতে হবে। এখন প্রফেশনাল লোক তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের হাজার হাজার লোক আছে, কিন্তু যোগ্যতাসম্পন্ন লোক নেই।’
তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে তেলের বাজার অনেক বড় হবে। আমরা নতুন রিফাইনারি করতে যাচ্ছি। বিপিসি আরো অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে। আমাদের ফাইনান্সিয়াল সিস্টেম, আমাদের ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বিশ্বের যেকোন আধুনিক তেল কোম্পানির মতো আধুনিক করতে হবে।’
অটোমেশনের বিষয়ে প্রধান অতিথি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছি তেল কোম্পানিগুলোকে অটোমেশন করতে। আবারো বলছি। তবে আপনারা করবেন না, আমি জানি। তারপরেও আমি বলে যাবো। দুর্নীতি কমানোর সর্বপ্রথম জায়গা হলো অটোমেশন টেকনোলজিতে নিয়ে আসা। সনাতন পদ্ধতিতে তেল দেয়া-নেয়ার ৬০ বছরের পুরোনো রীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তেল সরবরাহ ও পরিবহনের প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়। এজন্য সিঙ্গেল মুরিং পাইপ লাইন নির্মাণ করতে যাচ্ছি। গভীর সমুদ্রের জাহাজ থেকে পাইপ লাইনে সরাসরি টার্মিনালে তেল চলে আসবে। এ কাজটা হলে অনেকের ক্ষতি হবে, এ প্রকল্প নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। ’
সেপ্টেম্বরে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরে পাওয়ার ডিভিশন ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছে। আমি যখন যোগদান করলাম তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৫ হাজার মেগাওয়াট। আমার থাকা অবস্থাতেই ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে যাচ্ছি। আমরা আরো পাওয়ার পেতে চাই। এখন নেপাল থেকে হাইড্রো পাওয়ার আনার চেষ্টা চলছে। জ্বালানী সক্ষমতা তৈরি করতে চাই। জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’