অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি

9

দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানতেপারি চট্টগ্রাম মহানগরীতে তিন লাখ ভবনের ৯৭ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। দেশে যখন বড় ধরনের কোন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে তখন অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি নিয়ে বেশ মাতামাতি হয় পত্র পত্রিকা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচ্চ পর্যায়ে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় দু’টি ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস উচ্চ পর্যায়ে কমিটিও গঠন করেছিল। কিন্তু চট্টগ্রামের অগ্নিঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কোন কার্যকর ব্যবস্থা এখনো গ্রহণ করা হয়নি। কমিটি গঠনের পর নানা সমস্যা চিহ্নিত হলেও অগ্নিঝুঁকি থেকে ভবনগুলোকে বাঁচাতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রক্ষায় কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যা দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সিডিএ কঠোর পদক্ষেপের কথা বললেও তার কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের অগ্নিঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাগাড়ম্বরেই সমাপ্ত বলা যায়।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ৯৭ শতাংশ ভবন অগ্নিঝুঁকিতে থাকার যে কথা প্রচার মাধ্যমে উঠে এসেছে তা হলো, সিডিএ’র অনুমোদন ছাড়া ভবন তৈরি, ভবন তৈরিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের উপযোগী রাস্তা না রাখা, সিডিএ’র নকশা অনুমোদনের পাশাপাশি ভবন ব্যবহারের ছাড়পত্র পর্যন্ত মোট ৮ স্তরের অনুমোদন নেয়ার বিষয় উপেক্ষা ইত্যাদি। এক কথায় অপরিকল্পিত নগরায়ন দেশে অগ্নিঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে সিডিএ সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের উদাসিনতা আমাদের কাম্য নয়। আমরা মনে করি সত্যিকার অর্থে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও জনসচেতনতাই পারে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের অগ্নিঝুঁকি অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে।
চট্টগ্রামে গঠিত অগ্নি দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কমিটি, উপকমিটিতে চসিকের প্রকৌশল বিভাগ, এস্টেট শাখা, আইন শাখা, রাজস্ব, স্থানীয় কাউন্সিলদের সমন্বয় করে প্রত্যেক বিভাগের জনবল বাড়ানো প্রয়োজন। তা সম্ভব না হলে সাময়িক নিয়োগের মাধ্যমে জনবল বাড়ানোর ব্যবস্থা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১৫টি নির্দেশনা বাস্তাবায়ন করতে সিডিএ সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। দুর্ঘটনা ঘটে গেলে হা-হুতাশ করে লাভ নেই। আগেভাগে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ সারাদেশের অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অগ্নিকান্ডের ক্ষয়ক্ষতি বড়ই ভয়াবহ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা কালে সমূহ জানমাল রক্ষায় আধুনিক নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। যেমন দালান থেকে নিরাপদে মানুষদের সরাতে আধুনিক নেট ব্যবহার, ফায়ার সার্ভিসকে আরো আধুনিকীকরণ এবং সম্ভাব্য আরো নিরাপত্তামূলক সরঞ্জাম আবিষ্কার করলে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি থেকে জানমাল রক্ষা সহজ হবে। আমরা চাইনা চট্টগ্রামসহ দেশে অগ্নিকাণ্ডের কারণে কোন জানমাল যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসলে অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা হলো শুষ্ক মৌসুমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর প্রচারণা জোরদার করা।